32 C
Dhaka
Saturday, April 11, 2026
Homeবিনোদনঅভিমানী এক চিরসবুজ নায়ক

অভিমানী এক চিরসবুজ নায়ক

Date:

Related stories

করোনার পর দেশে অ্যালার্জির ওষুধ বিক্রি বেড়েছে

করোনা মহামারির পর বাংলাদেশে অন্য যেকোনো ওষুধের চেয়ে অ্যালার্জির...

আবারও তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলা বলছে ‘চুরি ও অপহরণ’

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার উপকূলে একটি তেল ট্যাংকার জব্দ করেছে বলে...

দুইবার আইপিএলজয়ী রাসেলসহ যাদেরকে ছেড়ে দিল কলকাতা

আন্দ্রে রাসেলের সঙ্গে কলকাতা নাইট রাইডার্সের দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি...

‘ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না’

শতবর্ষী প্যাডেল স্টিমার পি এস মাহসুদ মেরামত করে প্রমোদতরী...

৭০ ও ৮০-এর দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র জাফর ইকবাল। অভিনয় আর গানে দর্শকদের হৃদয়ে তিনি আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন। তৎকালীন দর্শকদের কাছে তিনি ছিলেন দারুণ জনপ্রিয়।

চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের মতে, জাফর ইকবাল ছিলেন খুব অভিমানী ও আবেগপ্রবণ মানুষ। কিছুটা বোহেমিয়ান ও অগোছালো জীবনযাপন করতেন। তবে নিজের সময় তো বটেই, পরবর্তী প্রজন্মকেও তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত করেছেন।

মাত্র ৪১ বছর বয়সে ১৯৯২ সালের ৮ জানুয়ারি অকালপ্রয়াণ ঘটে এই চিরসবুজ নায়কের।

জাফর ইকবালের চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ১৯৬৯ সালে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আপন পর’ সিনেমার মাধ্যমে। এতে তার বিপরীতে নায়িকা ছিলেন কবরী। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ‘সূর্য সংগ্রাম’ সিনেমায় ববিতার বিপরীতে প্রথম অভিনয় করেন তিনি। ১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মাস্তান’ সিনেমার মাধ্যমে জাফর ইকবাল ‘ড্যাশিং’ নায়কের তকমা পান। আর রোমান্টিক নায়ক হিসেবে পরিচিতি পান ‘নয়নের আলো’ সিনেমার মাধ্যমে।

জাফর ইকবাল প্রায় দেড় শ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে—’অবুঝ হৃদয়’, ‘ভাই বন্ধু’, ‘অবদান’, ‘প্রেমিক’, ‘সাধারণ মেয়ে’, ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘দিনের পর দিন’, ‘বেদ্বীন’, ‘অংশীদার’, ‘মেঘ বিজলী বাদল’, ‘নয়নের আলো’, ‘সাত রাজার ধন’, ‘আশীর্বাদ’, ‘অপমান’, ‘এক মুঠো ভাত’, ‘গৃহলক্ষ্মী’, ‘ওগো বিদেশিনী’, ‘নবাব’, ‘প্রতিরোধ’, ‘ফুলের মালা’, ‘সিআইডি’, ‘মর্যাদা’, ‘সন্ধি’, ‘বন্ধু আমার’, ‘উসিলা’ ইত্যাদি।

কেবল অভিনয় নয়, গানেও অনবদ্য ছিলেন জাফর ইকবাল। বড় ভাই ও সংগীত পরিচালক আনোয়ার পারভেজের সুরে ‘বদনাম’ সিনেমায় ‘হয় যদি বদনাম হোক আরও’ গানটি গেয়ে প্লেব্যাকে তার অভিষেক হয়।

আলাউদ্দিন আলীর সুরে এবং মনিরুজ্জামান মনিরের কথায় জাফর ইকবালের গাওয়া ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী’ এখনো শ্রোতাদের মনে অম্লান।

৮০-এর দশকে ‘কেন তুমি কাঁদালে’ শিরোনামে তার একটি অডিও অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশনের ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে তিনি গেয়েছিলেন ‘এক হৃদয়হীনার কাছে হৃদয়ের দাম কি আছে’ গানটি। পরে রফিকুল আলমও গানটি গেয়েছিলেন। তার গাওয়া ‘তুমি আমার জীবন, আমি তোমার জীবন’ গানটিও দারুণ শ্রোতাপ্রিয়।

১৯৫০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন জাফর ইকবাল। প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ তার বোন এবং সংগীত পরিচালক আনোয়ার পারভেজ তার বড় ভাই।

Latest stories