29 C
Dhaka
Monday, April 20, 2026
Homeমতামতবিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ার চ্যালেঞ্জ ও নতুন বাজেটে প্রত্যাশা

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ার চ্যালেঞ্জ ও নতুন বাজেটে প্রত্যাশা

Date:

Related stories

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৩

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই...

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি: শর্তের বেড়াজালে পড়বে বাংলাদেশ?

অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর...

‘উৎসবকে’ ছাড়িয়ে যাবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’: বাঁধন

নতুন একটি সিনেমার শুটিং শুরু করেছেন আজমেরী হক বাঁধন।...

যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে মেক্সিকোর উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ৫ জনের প্রাণহানি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের উপকূলে গ্যালভেস্টন শহরের কাছে মেক্সিকোর নৌবাহিনীর...

প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলা নির্বাচন অনিশ্চিতের ষড়যন্ত্র: বিএনপি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির হত্যাকে কেন্দ্র করে প্রথম...

নতুন সরকারের প্রথম বাজেট সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এটি শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার স্পষ্ট প্রতিফলন।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের সংকট ও রাজস্ব ঘাটতিসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব বিবেচনায় এবারের বাজেট ঘিরে প্রত্যাশা যেমন বেশি, তেমনি দায়িত্বও অনেক বড়।

গত কয়েক বছরে অর্থনীতির অন্যতম বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিনিয়োগে ধীরগতি। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে নানা কারণে। নীতিগত অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট, ডলার সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা তার মধ্যে অন্যতম।

ফলে অনেক শিল্পকারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে বন্ধও হয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানের ওপর, যা বেকারত্বকে আরও তীব্র করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে নতুন বাজেটের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি কার্যকর ও টেকসই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা। বিনিয়োগ বাড়াতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন নীতির ধারাবাহিকতা ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা।

কেবল ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং করনীতি, ব্যাংকিংখাত ও শিল্পনীতিতে সমন্বিত সংস্কার জরুরি। বিশেষ করে কর কাঠামো সহজ করা, ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানো ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।

রাজস্ব আয় বাড়ানো নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণত বাজেটে আয় বাড়ানোর জন্য কর বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু, এটি ব্যবসায়ীদের জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে।

তাই করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা বৃদ্ধি এবং কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনা বেশি কার্যকর হতে পারে। ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে কর সংগ্রহ জোরদার করা হলে রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে দুর্নীতিও কমবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি। খাদ্য ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।

এই অবস্থায় বাজেটে সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষিখাতে প্রণোদনা ও বাজার তদারকি জোরদারের মতো উদ্যোগ থাকতে হবে। একই সঙ্গে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা জরুরি।

জ্বালানিখাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির পূর্বশর্ত। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি শিল্প উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। তাই বাজেটে জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া উচিত। এতে উৎপাদন খরচ কমবে এবং শিল্পখাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে।

ব্যাংকিংখাতের দুর্বলতা অর্থনীতির জন্য আরেকটি বড় ঝুঁকি। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি ও সুশাসনের অভাব বিনিয়োগের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এ অবস্থায় ব্যাংকিংখাতে কঠোর নজরদারি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও আর্থিকখাতে শৃঙ্খলা ফেরানো জরুরি। বিনিয়োগকারীরা তখনই আস্থা পাবে, যখন একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক ব্যবস্থা পাবে।

বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন থাকে। বড় আকারের বাজেট ঘোষণা করা যতটা সহজ, তার কার্যকর বাস্তবায়ন ততটাই কঠিন।

তাই অপ্রয়োজনীয় বড় প্রকল্পের পরিবর্তে বাস্তবসম্মত ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত। এতে অপচয় কমবে ও অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বেসরকারিখাতকে শক্তিশালী করা অপরিহার্য। সরকারের ভূমিকা হওয়া উচিত সহায়ক ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে। তারা ব্যবসার প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করবে এবং উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে। নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সহজ ঋণ, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া গেলে কর্মসংস্থানও বাড়বে।

নতুন সরকারের প্রথম বাজেট দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনার একটি রূপরেখা। যদি এই বাজেটে বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত, কার্যকর সংস্কার ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকে, তাহলে দেশের অর্থনীতি নতুন গতি পেতে পারে। অন্যথায়, এটি কেবল আরেকটি আনুষ্ঠানিক দলিল হিসেবেই থেকে যাবে।

এখন সময় সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার। যে সিদ্ধান্ত দেশের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

 

মো. তরিকুল ইসলাম, লেখক, কলামিস্ট, শিক্ষা পরামর্শক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]

Latest stories