27.6 C
Dhaka
Wednesday, June 24, 2026
Homeপ্রযুক্তিযুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটার এখন চীনের

যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটার এখন চীনের

Date:

Related stories

আসামের ভক্তদের জন্য ভূরুঙ্গামারীতে বাড়ি তৈরি করেছিলেন মওলানা ভাসানী

ভারতের আসাম সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম কামাত আংগারিয়া। কুড়িগ্রামের...

সরকার অতিরিক্ত ব্যাংক ঋণ নেওয়ায় তারল্য সংকুচিত হচ্ছে: ডিসিসিআই

ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকার অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ায় তারল্য সংকুচিত...

‘গোলাম মামুন’-এর দ্বিতীয় কিস্তিতে কী পরিবর্তন আসছে

ওয়েব সিরিজ 'গোলাম মামুন'-এর দ্বিতীয় কিস্তি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ...

আমি নির্দোষ: মার্কিন আদালতে মাদুরো

প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে হাজির হওয়ার কয়েক মিনিটের...

উত্থান, সংকট ও অবিচল নেতৃত্ব: এক আপসহীন অধ্যায়

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত। সারাদিনের ভোট শেষে রাস্তার...

বিশ্বব্যাপী সুপারকম্পিউটারের র‌্যাঙ্কিং ‘টপ-৫০০’-এ যুক্তরাষ্ট্রের ‘এল ক্যাপিটান’কে পেছনে ফেলে শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে চীনের ‘লাইনশাইন’ কম্পিউটার।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সাফল্য চীনের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার বার্তা দিলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রতিযোগিতায় এখনও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি চীন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন বছর পর এই তালিকায় চীনের কোনো সুপারকম্পিউটার শীর্ষে উঠল।

‘লাইনশাইন’ কম্পিউটারটি চীনের শেনঝেনের ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টারের তৈরি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে থাকা ‘এল ক্যাপিটান’ সুপারকম্পিউটারটি মূলত দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার রক্ষণাবেক্ষণ ও গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়।

উন্নত কম্পিউটিং প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। মাত্র এক দিন আগেই সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোয়ান্টাম কম্পিউটিং খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে রাখতে নতুন একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন।

চীনের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

চীনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লাইনশাইন সুপারকম্পিউটারে উন্নত এআই চিপ ব্যবহার করা হয়নি। কারণ এসব চিপ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ওপর এখনও যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, চীনের এই সাফল্য মূলত নিজস্ব চিপ ডিজাইনের সক্ষমতা প্রদর্শনের একটি প্রচেষ্টা।

চীন ২০১০ সালে প্রথমবার টপ-৫০০ তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে পালাক্রমে শীর্ষস্থান বদল হলেও ২০২৩ সালের পর দেশটি তালিকায় নতুন কোনো সিস্টেম জমা দেয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞার কারণে চীন এতদিন নিজেদের সিস্টেম প্রকাশে অনাগ্রহী ছিল। এবার তারা আবারও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গ্লোবাল কনফ্লিক্ট অ্যান্ড কোঅপারেশন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো জিমি গুডরিচ বলেন, ‘চীন বিশ্বের কাছে বোঝাতে চাইছে যে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কার্যকর নয়। তবে এর পেছনের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাগুলোও দেখা দরকার।’

কেন এআই দৌড়ের চিত্র আলাদা?

একসময় সুপারকম্পিউটার মূলত বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগারগুলোতে জটিল বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশের কাজে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাইক্রোসফট, অ্যামাজন ও গুগলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই প্রশিক্ষণের জন্য বিশাল কম্পিউটিং অবকাঠামো গড়ে তুলেছে।

এসব প্রতিষ্ঠান সাধারণত তাদের সিস্টেম টপ-৫০০ তালিকায় জমা দেয় না।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, টপ-৫০০ তালিকা মূলত এমন কিছু পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়, যা বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও জটিল গণনার দক্ষতা পরিমাপ করে।

এআই-ভিত্তিক কাজের সক্ষমতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি পুরোপুরি উপযোগী নয় বলেও জানান তারা।

তাদের মতে, যদি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এআই-কেন্দ্রিক সুপারকম্পিউটার তালিকাভুক্ত করা হতো, তাহলে লাইনশাইন হয়তো শীর্ষ পাঁচেও জায়গা পেত না।

গত বছরের এক গবেষণায় গবেষকরা দেখিয়েছেন যে, ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের মালিকানাধীন ‘এক্সএআই’-এর তৈরি ‘কলোসাস’ সিস্টেমটি ইতোমধ্যেই মার্কিন সরকারের ‘এল ক্যাপিটান’-এর চেয়েও বেশি শক্তিশালী।

Latest stories