5.3 C
London
Sunday, November 30, 2025
Homeপ্রযুক্তিএবার চ্যাটবট জগতে গুগলের উত্থান, কিন্তু কেন

এবার চ্যাটবট জগতে গুগলের উত্থান, কিন্তু কেন

Date:

Related stories

চিড়িয়াখানায় প্রাণীর প্রতি মানবিক আচরণ করা হয় না: ফরিদা আখতার

চিড়িয়াখানায় প্রাণীদের প্রতি মানবিক আচরণ করা হয় না বলে...

ইতিহাসে আলোচিত যত গণভোট

সংস্কার উদ্যোগ ঘিরে দেশে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে গণভোট।...

প্রথমবার ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে রোহিত, সৌম্যের বড় লাফ

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে অনেক অর্জন ধরা দিলেও কখনো ওয়ানডে ব্যাটারদের...

ব্র্যাক ব্যাংক–দ্য ডেইলি স্টার আইসিটি অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৩ ব্যক্তি ও ৪ প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের অগ্রগতিতে ব্যতিক্রমী ভূমিকা...

ভোটের বাক্সে ৬০ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন জোহরান মামদানি

একের পর এক নজির গড়ে চলেছেন নিউইয়র্ক মহানগরীর নবনির্বাচিত...

২০২২ সালের শেষ দিকে ওপেনএআই যখন চ্যাটজিপিটি প্রকাশ করল, তখন তারা একচেটিয়াভাবে বাজার দখল করে নেয়। সেই সময় গুগল নিজের চ্যাটবট প্রকাশ করতে হিমশিম খাচ্ছিল। অনেক প্রযুক্তি বিশ্লেষকই বলছিলেন, গুগলের সিইও সুন্দর পিচাইয়ের উচিত পদত্যাগ করা।

প্রায় তিন বছর পর গুগল অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তাদের নতুন এআই মডেল জেমিনি-৩ সফল হয়েছে।

গুগল ইতোমধ্যে মাইক্রোসফটকে বাজার মূল্যায়নে ছাড়িয়ে গেছে এবং এখন ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের দিকে এগোচ্ছে। এর শেয়ারমূল্য কেবল এ বছরেই প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে।

এটি ইঙ্গিত দেয় যে, প্রযুক্তি জগতের যেকেনো ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা গুগলের আছে।

বিভিন্ন টেক জায়ান্ট এআই দৌড় খুব দ্রুত এগোচ্ছে, তাই এখানে কোনো কিছু আপাতত স্থায়ী নয়।

গুগল আগে কখনো এত ভালো অবস্থানে ছিল না। হঠাৎ কেন এআই জগতে গুগলের দারুণ উত্থান, নিচে কারণগুলো দেওয়া হলো—

জেমিনি-৩ গত সপ্তাহে প্রকাশ পেয়েছে এবং ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এটি কোডিং, ডিজাইন, বিশ্লেষণসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে আগের সংস্করণকে ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী মডেলগুলোকেও বেঞ্চমার্কে হারাচ্ছে।

বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি ওয়েবসাইট ও সাধারণ ভিডিও গেম ডিজাইনেও অত্যন্ত দক্ষ, যা কোডিংয়ের বাইরে আরও অনেক কাজে এর ব্যবহার বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এই মডেল প্রকাশের পর গুগলের শেয়ারমূল্য ১৮ নভেম্বরের পর থেকে ১২ শতাংশ বেড়েছে।

গুগল দীর্ঘ দশকের বেশি সময় ধরে নিজস্ব চিপ তৈরি করে আসছে। জেমিনি মডেলগুলো গুগলের এই চিপেই চালু করা হয়েছে। গুগল এখন আশা করছে, অন্যান্য কোম্পানিও তাদের মডেল প্রশিক্ষণে এই চিপ ব্যবহার করবে।

গুগল ক্লাউডে চিপ ব্যবহারের সুবিধা ও সম্প্রতি আরও গ্রাহক আনার জন্য জোর প্রচারণা চালাচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে এনভিডিয়ার ব্যবসার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

এছাড়া একটি বড় চুক্তির ব্যাপারে গুগল ও মেটার মধ্যে আলোচনা চলছে। যেখানে মেটার ডেটা সেন্টারে গুগলের চিপ বসানো হতে পারে। এই খবর প্রকাশের পর এএমডি ও এভিডিয়ার শেয়ারের দাম দ্রুত পড়ে যায়।

২০২০ সালে গুগলের সার্চ ব্যবসার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অ্যান্টিট্রাস্ট মামলায় আদালত রায় দিয়েছে সেপ্টেম্বরে। এই রায়ে গুগলের বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু শেষমেশ বড় ধরনের কোনো শাস্তি হয়নি।

আদালত বলেছে, ‘অ্যাপলকে ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন হতে অর্থ দিতে পারবে গুগল। তবে তা হবে একচেটিয়া নয়, বিকল্প রাখতে হবে। এছাড়া গুগলকে কিছু সার্চ ডেটা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে শেয়ার করতে হবে। গুগলের ক্রোম ব্রাউজার একসময় ঝুঁকিতে ছিল, যা সার্চ-অ্যাড ব্যবসার জন্য বড় আঘাত হতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গুগল বেশ ভালোভাবেই রক্ষা পেয়েছে।

বিখ্যাত বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট তার কোম্পানি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের মাধ্যমে গত ত্রৈমাসিকে গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেটে ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন।

এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, অ্যাপল ছাড়া বাফেট সাধারণত টেক কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেন না। তার অবসরের আগে গুগলে বিনিয়োগের মানে হলো, তিনি গুগলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী।

গুগলের বড় অর্থ আসে সার্চ অ্যাড থেকে। অনেক বিনিয়োগকারী ভয় পাচ্ছিলেন যে, এআই সার্চের কারণে গুগল নিজেই নিজের ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কিন্তু বাস্তবতা তার উল্টো, তৃতীয় ত্রৈমাসিকে গুগলের সার্চ আয় ১৫ শতাংশ বেড়েছে।

এআই কিছু ওয়েবসাইটের ট্রাফিক কমালেও, গুগলের ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে না।

গুগলের দাবি, জেনারেটিভ এআই ব্যবহারকারীদের আরও বেশি সার্চ করতে উৎসাহিত করছে।

Latest stories