বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের অগ্রগতিতে ব্যতিক্রমী ভূমিকা রাখায় চার প্রতিষ্ঠান ও তিনজন উদ্যোক্তা পেলেন ব্র্যাক ব্যাংক–দ্য ডেইলি স্টার আইসিটি অ্যাওয়ার্ড।
আজ শনিবার দশমবারের মতো শেরাটন ঢাকায় এ আয়োজন করা হয়।
বার্ষিক এই আয়োজনে আইসিটিতে উৎকর্ষতার এক দশক পূর্তি উদযাপন করা হয়। ডিজিটাল ফাইন্যান্স, ই-কমার্স, উদ্যোক্তা উদ্যোগ, হেলথ-টেক এবং উদ্ভাবনে সাফল্যগুলোকে তুলে ধরা হয় আয়োজনে।
এবার সাত ক্যাটাগরিতে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।
বিকাশ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও কামাল কাদির ‘আইসিটি বিজনেস পারসন অব দ্য ইয়ার’ এবং ফুডপান্ডা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা আমবারিন রেজা ‘আইসিটি উইমেন অব দ্য ইয়ার’ স্বীকৃতি পেয়েছেন। বিডিজবস ডট কম-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর পেয়েছেন ‘আইসিটি পাইওনিয়ার’।
‘ডিজিটাল কমার্স’ পুরস্কার জিতেছেন আলিবাবা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেড। ‘আইসিটি স্টার্ট-আপ অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে ট্যালিখাতা (প্রগতি সিস্টেমস লিমিটেড)।
পাঠাও পেয়েছে ‘স্পেশাল রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড’। ‘আইসিটি সল্যুশন প্রোভাইডার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে অগমেডিক্স বাংলাদেশ।
দারাজের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন এএইচএম হাসিনুল কুদ্দুস রুশো। ট্যালিখাতার পক্ষে শাহাদাত খান, অগমেডিক্সের পক্ষে রাশেদ মুজিব নোমান এবং পাঠাওয়ের পক্ষে ফাহিম আহমেদ পুরস্কার নেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
দেশে দক্ষ আইসিটি বিশেষজ্ঞের অভাব নেই, তবে সরকার তাদের যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারছে না বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন বলেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উদ্যোক্তা সক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী। সে কারণেই এখন আমরা বাধ্যতামূলক করেছি যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকেও আইসিটি বিশেষজ্ঞদের সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে যুক্ত করা হবে।’
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে আইসিটি বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং আগামী দশকটি দখল করে রাখবে এআই, বিগ ডেটা বিশেষজ্ঞ ও কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা। তার মতে, আইসিটি নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমিয়ে দূর-সেবা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে।
প্রযুক্তির জগতে— বিশেষ করে আইটি, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তির জগতে— বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনম।
মাহফুজ আনম বলেন, ‘আমাদের মধ্যে এত প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও আমরা কেন সেই প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারছি না— এ প্রশ্ন আমাদের নিজেদেরই করতে হবে।’
তিনি যোগ করেন, ‘তাই দয়া করে, আসুন আমরা বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে আমাদের স্বপ্ন গড়ি। যা সম্ভব, সেই ভিত্তির ওপর ভবিষ্যতের পথ রচনা করি। এতে প্রতিটি পদক্ষেপ হবে টেকসই, এবং সেই টেকসই প্রতিটি পদক্ষেপ আমাদের আরও এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগাবে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘কোনো ধরনের বিলম্ব বাংলাদেশকে বিশ্ব অগ্রগতির বাইরে ঠেলে দেবে এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা অসম্ভব করে তুলবে।’
দেশব্যাপী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবন ও তাদের কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে ২০১৬ সাল থেকে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার এ পুরস্কার দিয়ে আসছে।