33.8 C
Dhaka
Friday, July 3, 2026
Homeআন্তর্জাতিকমার্কিন জ্বালানির প্রাণকেন্দ্র হবে ভেনেজুয়েলা: মাচাদো

মার্কিন জ্বালানির প্রাণকেন্দ্র হবে ভেনেজুয়েলা: মাচাদো

Date:

Related stories

রুমিন-নীরবসহ ৯ বিএনপি নেতা বহিষ্কার

রুমিন ফারহানা ও সাইফুল আলম নীরবসহ নয়জনকে বিএনপি থেকে...

ফাইনালেও সুপার ওভার: বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হার, চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান শাহিনস

সেমিফাইনালে সুপার ওভারের রোমাঞ্চে ভারত 'এ' দলকে হারিয়ে ফাইনালে...

গাজীপুরে সিএনজিঅটোরিকশার ধাক্কায় পোশাক শ্রমিক নিহত

গাজীপুরের করমতলা এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় নার্গিস আক্তার (২০)...

রোহিঙ্গাদের জন্য আসা ত্রাণের অর্থ অপব্যবহারের খেসারত

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘস্থায়ী মানবিক...

প্রথম এশিয়া-প্যাসিফিক এআই অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের ৩টি স্বর্ণপদক জয়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক প্রথম এশিয়া-প্যাসিফিক অলিম্পিয়াডে (এপিওএআই) তিনটি...

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় চলছে তুলকালাম কাণ্ড। মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে নিউইয়র্কে নিয়ে গেছে মার্কিন সেনা। ইতোমধ্যে মাদুরোকে মার্কিন আদালতেও হাজির করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ফক্স নিউজের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খুলেছেন দেশটির বিরোধীদলের নেতা মারিয়া করিনা মাচাদো। ভেনেজুয়েলাকে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মিত্র ও দেশটির জ্বালানি প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন মাচাদো।

সোমবার ফক্স নিউজের সঞ্চালক শন হ্যানিটির কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাচাদো মত দেন, ৩ জানুয়ারি একটি ঐতিহাসিক দিন।

 নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সেদিন ‘ন্যায়বিচারের হাতে স্বৈরাচারের পরাজয়’ হয়েছে।

গত শনিবার ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, তারা একটি বড় আকারের সামরিক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার ‘স্বৈরশাসক’ নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করেছে। মাদুরোকে ব্রুকলিনের একটি কুখ্যাত কারাগারে রাখা হয়েছে। গতকাল তাকে আদালতেও হাজির করা হয়েছে।

হ্যানিটিকে মাচাদো সোমবার বলেন, ‘ন্যায়বিচারের হাতে স্বৈরাচারের পরাজয়ের দিন হিসেবে ইতিহাসের পাতায় ৩ জানুয়ারি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটি একটি মাইলফলক। এটা শুধু ভেনেজুয়েলার মানুষ ও তাদের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি মনে করি এটা বিশ্বজুড়ে মানবতা, স্বাধীনতা এবং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকা নিশ্চিতের পথে একটি বিশাল পদক্ষেপ।’

তিনি ফক্স নিউজকে আরও জানান, এই বিজয় ‘ঐতিহাসিক’ এবং দেশটিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে বড় একটি পদক্ষেপ।

‘ভেনেজুয়েলার মুক্তির পর প্রাথমিকভাবে দেশটি (যুক্তরাষ্ট্রের জন্য) যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মিত্র হিসেবে কাজ করবে। লাতিন আমেরিকার অপরাধ চক্রগুলোর কার্যক্রম বানচাল করে সমগ্র অঞ্চলে নিরাপত্তা বলয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। এসব অপরাধী চক্র আমাদের জনগণ ও অবকাঠামোর অনেক ক্ষতি করেছে। এমন কী, মার্কিন জনগণও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই চক্রগুলো ভেঙে ফেলার কাজে সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র হবে ভেনেজুয়েলা’, বলেন মাচাদো।

তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, আমরা ভেনেজুয়েলাকে মার্কিনিদের জন্য জ্বালানি প্রাণকেন্দ্রে রূপান্তর করব। আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব। বাজারগুলো উন্মুক্ত করে দেব। আমরা বিদেশি বিনিয়োগকে সুরক্ষা দেব। তৃতীয়ত, আমরা দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হওয়া লাখো নাগরিককে ফিরিয়ে আনব। যাতে তারা একটি শক্তিশালী ও উন্নয়নশীল জাতি, উন্মুক্ত সমাজ গঠনে অবদান রাখতে পারেন। আমরা আগের প্রশাসনের সব ধরনের ধ্বংস, অপরাধমূলক কার্যক্রমকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাবে। আমরা ভেনেজুয়েলাকে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব।’

ভেনেজুয়েলার মুক্তির জন্য দীর্ঘ দিন ধরে লড়ছেন মাচাদো। প্রাথমিক নির্বাচনে মাদুরোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে জয়ী হন মাচাদো। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে আর লড়ার সুযোগ পাননি তিনি।

তার পরিবর্তে এডমুন্ডো গঞ্জালেজ চূড়ান্ত পর্যায়ের নির্বাচনে অংশ নিয়েও জয়ী হন। তবে মাচাদো বা তার দলকে সরকার গঠন করতে দেয়নি মাদুরো প্রশাসন।

মাচাদোর সংগ্রামকে নোবেলে শান্তি পুরষ্কারের মাধ্যমে বৈশ্বিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। নোবেল পাওয়ার পর তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঐ পুরস্কার উৎসর্গ করেন।

অপরদিকে, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও নবনিযুক্ত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রড্রিগেজের কড়া সমালোচনা করেছেন স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা নেতা মাচাদো। 

তিনি দেলসিকে ‘নির্যাতন, নিপীড়ন, দুর্নীতি ও মাদকপাচারের হোতাদের অন্যতম’ আখ্যা দেন।

ফক্স নিউজকে মাচাদো আরও বলেন, ‘মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে আমরা ৯০ শতাংশ ভোট পাব। এতে আমার কোনো সন্দেহ নাই।’

পাশাপাশি তিনি ‘যত দ্রুত সম্ভব’ দেশে ফেরার অঙ্গীকার করেন।

২০২৪ সালের নির্বাচনের পর প্রাণের ঝুঁকিতে অজ্ঞাত অবস্থানে লুকিয়ে আছেন মাচাদো। এর মাঝেই নোবেল পান তিনি।

নোবেল কমিটি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভেনেজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবিরাম প্রচেষ্টা এবং একনায়কতন্ত্র থেকে ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্রে উত্তরণের সংগ্রামের জন্য তিনি এই পুরস্কার পাচ্ছেন।

ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ এখনো দোলাচলে।

মার্কিন প্রতিনিধি সভার স্পিকার ও রিপাবলিকান নেতা মাইক জনসন মত দেন, শিগগির দেশটিতে নির্বাচন হওয়া দরকার। অপরদিকে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মত দিয়েছেন, এখন নির্বাচন আয়োজনের ‘প্রশ্নই উঠে না’।

আপাতত ভেনেজুয়েলা শাসনে মারিয়া মাচাদোর ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই। দেশটির আদালত ও সেনাবাহিনী ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনও দেলসির সঙ্গে সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

তা সত্ত্বেও, মাচাদোর দেশে ফেরার ঘোষণায় দেশে-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। 

 

Latest stories