26.9 C
Dhaka
Wednesday, July 15, 2026
Homeরাজনীতি৬ বছরে রুমিন ফারহানার বার্ষিক আয় ৪ লাখ থেকে বেড়ে ৯৭ লাখ...

৬ বছরে রুমিন ফারহানার বার্ষিক আয় ৪ লাখ থেকে বেড়ে ৯৭ লাখ টাকা

Date:

Related stories

১-২ শতাংশ উন্নতিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন বাটলার

অগ্রগতি বড় কোনো লাফে আসে না, আসে ক্ষুদ্র উন্নতির...

হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ...

সমালোচনার মুখে এআই ছবি তৈরির ফিচার বন্ধ করল মেটা

সম্প্রতি ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা এআইর মাধ্যমে ছবি তৈরির...

বাংলাদেশের চা বাগানে কুষ্ঠ ‘পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি’

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পাত্রখোলা চা বাগানের পাতাতোলা নারী...

১ লাখ টন ডিজেল কিনছে সরকার, মে মাসে তেলের দাম অপরিবর্তিত

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে...

বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত রুমিন ফারহানার ঘোষিত আয় ও সম্পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে ৬ বছরের ব্যবধানে। ২০১৯ সালে দেওয়া হলফনামার সঙ্গে ২০২৫ সালেরটি তুলনা করলে দেখা যায়, তার বার্ষিক আয় বেড়েছে ২২ গুণের বেশি। নগদ অর্থও বেড়েছে ৩ গুণের বেশি। একইসঙ্গে স্থাবর সম্পদের তালিকা বেড়েছে কয়েকগুণ।

২০১৯ সালের ৩ আগস্ট একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ২ মাসের মাথায় তৎকালীন সরকারের কাছে ১০ কাঠা জমি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছিলেন রুমিন ফারহানা। সংসদ সদস্যদের প্যাডে করা ওই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকায় তার নিজের নামে কোনো ফ্ল্যাট, জমি বা বসতভিটা নেই। অথচ ৬ বছর পর জমা দেওয়া হলফনামায় দেখা যায়, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় তার নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে।

দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন রুমিন ফারহানা।

গত ২৯ ডিসেম্বর তিনি সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

এর আগে ২৪ ডিসেম্বর তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন সরাইল উপজেলার সাবেক যুবদল নেতা মো. আলী হোসেন।

২০১৯ সালে জমা দেওয়া হলফনামায় ফারহানা বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ টাকা। এর মধ্যে আইন পেশা থেকে আয় ছিল ৪ লাখ টাকা এবং ব্যাংক আমানতের সুদ ৩৪ হাজার ১০০ টাকা।

২০২৫ সালের হলফনামা অনুযায়ী, তার ঘোষিত বার্ষিক আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। অর্থাৎ ৬ বছরের ব্যবধানে তার আয় বেড়েছে অন্তত ২২ গুণ। পেশা হিসেবে নিজেকে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

২০১৯ সালে তার হাতে নগদ অর্থ ছিল ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৪২২ টাকা। ২০২৫ সালের হলফনামায় সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা রয়েছে ৩০ লাখ ৪২ হাজার ৬৯৪ টাকা এবং হাতে নগদ রয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৭৯ টাকা। ৬ বছরে নগদ অর্থ বেড়েছে প্রায় ৩ গুণেরও বেশি।

২০১৯ সালে রুমিন ফারহানা তার স্থাবর সম্পদ হিসেবে মাত্র একটি ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ করেন, যা তিনি মায়ের কাছ থেকে পেয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের হলফনামা অনুযায়ী, তার মালিকানায় রয়েছে—ধানমন্ডির ল্যাবরেটরি রোডে ৫ কাঠা জমি, একই এলাকায় পাঁচটি ফ্ল্যাট, মায়ের কাছ থেকে পাওয়া আরও একটি ফ্ল্যাট এবং পুরান ঢাকার পল্টনে ১ হাজার ২৫৮ দশমিক ৮৮৪ বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক স্পেস, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা। এসব সম্পত্তির অধিকাংশই উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সেগুলোর জন্য কোনো ক্রয়মূল্য দেখানো হয়নি।

দুটি হলফনামাতেই তার নামে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার থাকার তথ্য রয়েছে, যা উপহার হিসেবে পাওয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ব্যাংক আমানত, শেয়ার, বন্ড বা অন্য কোনো বিনিয়োগ তার নামে নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা তিনটি মামলা ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলমান ছিল। সর্বশেষ হলফনামা অনুযায়ী, নতুন আরেকটি মামলাসহ আগের সেসব মামলা একই আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে।

নতুন হলফনামা অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে রুমিন ফারহানা মোট ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছেন। এর মধ্যে ২০ লাখ টাকা আসবে তার নিজস্ব আয়ের উৎস থেকে (আইন পেশা) এবং ৫ লাখ টাকা ধার নেবেন খালাতো ভাই প্রবাসী গালিব মেহেদীর কাছ থেকে।

প্রসঙ্গত, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহআন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে রুমিন ফারহানাকে বহিষ্কার করা হয়।

Latest stories