26.7 C
Dhaka
Thursday, July 30, 2026
Homeরাজনীতিজামায়াতের সঙ্গে জোট কি এনসিপিকে সংকটে ফেলছে?

জামায়াতের সঙ্গে জোট কি এনসিপিকে সংকটে ফেলছে?

Date:

Related stories

জাতীয় অ্যাথলেটদের দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা নয়: হুঁশিয়ারি এনএসসির

জাতীয় দল সম্পৃক্ত খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক বা নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার...

সাবেক আ. লীগ সরকারের ৩৩২ কোটি টাকায় রোজ গার্ডেন ক্রয় নিয়ে তদন্তে দুদক

২০১৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগে পুরান ঢাকার...

বদলে যাচ্ছে কেনাকাটার অভ্যাস, সুপারশপে বাড়ছে বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতা

একসময় বাংলাদেশের মানুষের প্রতিদিনের জীবন আর কাঁচাবাজার ছিল অবিচ্ছেদ্য।...

প্লেব্যাক ছাড়ার সিদ্ধান্ত, অরিজিৎকে যা বলেছিলেন আমির

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন...

অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নিহত নারী ছিলেন কবি, ট্রাম্পের চোখে হয়ে গেলেন ‘সন্ত্রাসী’

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে অভিবাসন বিভাগের এক কর্মকর্তার গুলিতে ৩৭...

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। এর আগে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় নির্বাচনী জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গভীর সংকটে পড়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

গত ১১ দিনে দলটির অন্তত ২০ জন শীর্ষ ও দ্বিতীয় সারির নেতা দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বা ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৈয়দা নীলিমা দোলা গতকাল ফেসবুক পোস্টে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি লেখেন, ‘এনসিপির পক্ষে এখন আর মধ্যপন্থী রাজনীতির নতুন পথ সৃষ্টি সম্ভব নয়। এতদিন আমি এনসিপির সঙ্গে ছিলাম কারণ আমি মনে করেছিলাম, দলটি জুলাই পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। তবে সম্প্রতি দলটির নানা সিদ্ধান্তের পর আমার কাছে এটুকু স্পষ্ট, এই দলটি সম্পূর্ণভাবে ডানপন্থী ঘরানায় ঢুকে পড়ছে এবং সেই ধারার রাজনীতিকেই তারা পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে।’

তার ভাষায়, ‘জামায়াতের সাথে এনসিপির যে নির্বাচন কেন্দ্রিক জোট তা কোনো কৌশলগত জোট নয়, যদি হতো তাহলে এত নেতাকর্মী পদত্যাগ করতো না।’

দলটির একটি সূত্র দ্য ডেইলি স্টারকে জানায়, জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই এ সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। সূত্রটি আরও জানান, যেকোনো সময় অন্তত আরও ১০ জন গুরুত্বপূর্ণ নেতা পদত্যাগ করতে পারেন।

গত ২৭ ডিসেম্বর এনসিপির অন্তত ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। সেখানে জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে বলা হয়, এমন অংশীদারিত্ব দলটির মধ্যপন্থী ও সংস্কারবাদী আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তবে একইদিন এসব আপত্তি উপেক্ষা করে দলটির ১৩০ জন সদস্য এই সিদ্ধান্তের পক্ষে চিঠি পাঠায় আহ্বায়ক বরাবর। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম জোটের ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন, দলটির অধিকাংশ সদস্য এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিলেন।

এর আগে ২৫ ডিসেম্বর যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক জোটের প্রতিবাদে পদত্যাগ করলে সংকটটি প্রকাশ্যে আসে।

২৭ ডিসেম্বর সংকট আরও গভীর হয়। ওইদিনন সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা আহ্বায়ককে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে জানান, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

২৮ ডিসেম্বর একের পর এক পদত্যাগ করেন আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতা। তাদের মধ্যে আছেন যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন এবং ফেনী-৩ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মোহাম্মদ আবুল কাশেম।

এনসিপির কৃষক উইং-এর প্রধান সমন্বয়কারী এবং মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি আজাদ খান ভাসানীও পদত্যাগ করেন। তিনি জামায়াতের সঙ্গে জোটকে দলের প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলে মন্তব্য করেন।

এছাড়া যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন ও আরিফ সোহেলও পদত্যাগ করেছেন।

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আরিফ সোহেল ফেসবুকে লেখেন, ‘নতুন গণরাজনীতি, রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী নির্মাণ ও জুলাইয়ের গণশক্তিকে সংগঠিত করার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালিত না হওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রতিষ্ঠিত পুরনো দলগুলোর সাথে আপসরফা করে পুরনো ক্ষমতার রাজনীতিতেই প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছে।’

পদত্যাগকারী অন্য নেতাদের মধ্যে আছেন—খালেদ সাইফুল্লাহ, খান মুহাম্মদ মুরসালীন, ফারহাদ আলম ভূঁইয়া, আল আমিন আহমেদ টুটুল, আসিফ মোস্তফা জামাল, মীর হাবীব আল মানজুর এবং ওয়াহিদুজ্জামান।

এই সংকট নারীনেতৃত্বের ওপরও বড় প্রভাব ফেলেছে।

সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন জানান, জামায়াতের সঙ্গে জোটকে তিনি ‘নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য’ মনে করেন এবং এ কারণে তিনি ভোলা-১ আসনে নির্বাচন করবেন না।

যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম নির্বাচন ও দলীয় কর্মকাণ্ড—দুটো থেকেই সরে দাঁড়িয়েছেন।

মনিরা শারমিন নওগাঁ-৫ আসন থেকে সরে দাঁড়ান। দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক মনজিলা ঝুমা খাগড়াছড়ি থেকে সরে দাঁড়ান। উত্তরাঞ্চলীয় সংগঠক দ্যুতি আরণ্য চৌধুরী জানান, তিনি আর প্রচারে অংশ নেবেন না। ফেসবুকে তিনি লেখেন, এই সিদ্ধান্ত অগণিত নেতা-কর্মীর স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে।

নোয়াখালী-৫ আসন থেকে সরে দাঁড়ানো হুমায়রা নূর বলেন, তিনি দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন, তবে সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে আপাতত নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন। তিনি যোগ করেন, এনসিপির সঙ্গে তার রাজনৈতিক যাত্রা এখানেই শেষ নয়।

এই অস্থিরতার মধ্যেই ২৯ ডিসেম্বর সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। তিনি জানান, তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না। তবে দলের মুখপাত্র এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

তবে এনসিপি নেতৃত্ব পুরো পরিস্থিতি নিয়ে ওঠা উদ্বেগ নাকচ করে দিয়েছে।

যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন বলেন, পদত্যাগগুলো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ফল এবং এতে দল বা জোটের কোনো ক্ষতি হবে না। তার ভাষায়, দলের ভেতরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এই জোট গঠিত হয়েছে।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, আরও পদত্যাগের খবর আসছে। তিনি বলেন, তালিকায় অন্তত আরও ১০টি নাম আছে এবং এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

Latest stories