27.3 C
Dhaka
Sunday, November 1, 2026
Homeবাংলাদেশঅন‌ভিজ্ঞ এম‌ডির অ‌নিয়ম স্বেচ্ছাচা‌রিতায় ঝু‌ঁকির মু‌খে মে‌ট্রো‌রেল, তদন্ত চে‌য়ে প্রধানমন্ত্রীর কা‌ছে চি‌ঠি

অন‌ভিজ্ঞ এম‌ডির অ‌নিয়ম স্বেচ্ছাচা‌রিতায় ঝু‌ঁকির মু‌খে মে‌ট্রো‌রেল, তদন্ত চে‌য়ে প্রধানমন্ত্রীর কা‌ছে চি‌ঠি

Date:

Related stories

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শান্তি ও নিরাপত্তা আসবে: মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল...

প্রথমবার ত্রিপাক্ষিক আলোচনায় বসতে যাচ্ছে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র

প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক নিরাপত্তা আলোচনায়...

৪ পয়েন্ট এগিয়ে গিয়ে ফ্লিক বললেন, বার্সেলোনা হাল ছাড়েনি

ধারার বিপরীতে গোল হজমের ধাক্কা সামলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার...

ভোট গ্রহণের সময় ও বুথ সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ ইসির

সরকারের নির্দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত...

আর্থিকভাবে শক্তিশালী এনবিএফআইয়ের আমানত সীমা শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

যেসব ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) আর্থিকভাবে শক্তিশালী, তাদের...

ঢাকা মেট্রোরেলের প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, প্রশাসনিক জটিলতা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসন্তোষ এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠেছে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শওগাতুল আলমের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন আজিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।

গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেওয়া ওই আবেদনে মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, প্রকল্প পরিচালনায় দক্ষতা এবং তাঁর নিয়োগের যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া পর্যালোচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর যানজট নিরসন এবং আধুনিক গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেট্রোরেল একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো প্রকল্প। তবে বর্তমান ব্যবস্থাপনায় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রত্যাশিত অগ্রগতি বজায় থাকছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কিছু সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারী।

আবেদনে মো. শওগাতুল আলমের পূর্ববর্তী কর্মপরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, তিনি ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারে কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভাবনাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র ও দৃশ্যভিত্তিক উপস্থাপনা তৈরির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। আবেদনকারী তাঁর অতীত কর্মপরিচয়, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং মেট্রোরেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ভিত্তিতে যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসন্তোষের বিষয়টিও আবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের আচরণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় অসন্তুষ্ট হয়ে তিনজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। এসব পদত্যাগের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে, মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওগাতুল আলমের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনায় নজরুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর অতীত পেশাগত ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড এবং বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে তাঁর ভূমিকার বিষয়টিও নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি আলোচনায় ছিল। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

এ ছাড়া মেট্রোরেলের বিভিন্ন স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎব্যবস্থা এবং নির্মাণকাজের মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা, বাস্তব অগ্রগতি, ব্যয় এবং কারিগরি মান যাচাইয়ে স্বাধীন কারিগরি নিরীক্ষা ও প্রশাসনিক পর্যালোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন আবেদনকারী।

বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও আবেদনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে জাপানি প্রতিষ্ঠান মারুবেনিসহ সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের সমন্বয় ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রকল্পের কাজ, চুক্তি বাস্তবায়ন কিংবা ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া আবেদনে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকল্পের অগ্রগতি ও নির্মাণকাজের মান যাচাই, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আচরণসংক্রান্ত অভিযোগ পর্যালোচনা, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং তাঁর নিয়োগের যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া যাচাই।

আবেদনকারী বলেছেন, তদন্তে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অনিয়ম কিংবা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি মেট্রোরেলের চলমান ও ভবিষ্যৎ প্রকল্প দ্রুত, স্বচ্ছ ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়নে কার্যকর তদারকি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, মেট্রোরেল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়; এটি জনগণের অর্থে গড়ে ওঠা জাতীয় সম্পদ। তাই এ প্রকল্পের নেতৃত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জবাবদিহি, দক্ষতা ও পেশাদারত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।

তবে আবেদনকারীর উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কিংবা স্বাধীন তদন্তের ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আবেদনকারী আজিজুর রহমান।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওগাতুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয় এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Latest stories