28 C
Dhaka
Sunday, September 20, 2026
Homeবাণিজ্যভুয়া ব্যবসার আড়ালে কোটি টাকার প্রতারণা: মঞ্জুরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা

ভুয়া ব্যবসার আড়ালে কোটি টাকার প্রতারণা: মঞ্জুরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা

Date:

Related stories

সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াতের বৈঠক

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আজ...

ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক উপহার দিলেন মাচাদো

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড...

ঝুঁকির পথে হাঁটবে না বাংলাদেশ

নির্বাচকরা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচ জিতেই...

ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে ভাইয়ের মৃত্যু

গরুর জন্য বাড়ির পাশে খড় আনতে গিয়েছিলেন বড় ভাই।...

সরকারের গুদামে সার, কৃষক কেন পাচ্ছে না?

দেশে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সার সংকট চলছে।...

রাজধানী ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ব্যবসা, জাল ওয়ার্ক অর্ডার, চেক ডিজঅনার এবং সংঘবদ্ধ আর্থিক প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে মঞ্জুরুল ইসলাম ও তার কথিত সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, “রাইন্ড্রপ এন্টারপ্রাইজ (Raindrop Enterprise)” নামের প্রতিষ্ঠানকে সামনে রেখে সাধারণ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং পরিচিত মহলের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্র।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মঞ্জুরুল ইসলাম নিজেকে বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানের ভুয়া বা সন্দেহজনক ওয়ার্ক অর্ডার প্রদর্শন করতেন। কখনো গাড়ি কোম্পানি, কখনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কখনো বড় কর্পোরেট সাপ্লাইয়ের গল্প দেখিয়ে কোটি টাকার বিনিয়োগ সংগ্রহ করা হতো। শুরুতে অল্প অঙ্কের লাভ ও টাকা ফেরত দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করা হতো, পরে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়ার পর শুরু হতো সময়ক্ষেপণ, মিথ্যা আশ্বাস ও গা-ঢাকা দেওয়ার কৌশল।

অভিযোগ উঠেছে, মঞ্জুর একা নন; তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্র পরিচালনা করছেন, যেখানে তার বিভিন্ন বন্ধু, পরিচিত ব্যবসায়ী এবং পরিবারের একাধিক সদস্যও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই চক্রের মূল কাজই হচ্ছে বিশ্বাস অর্জন করে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ সংগ্রহ করা এবং পরে তা আত্মসাৎ করা।

সূত্র বলছে, মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভিন্ন থানায় ও আদালতে একাধিক মামলা হয়েছে। চেক ডিজঅনার, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ছয়টিরও বেশি মামলা চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ কোটিরও বেশি টাকার প্রতারণার অভিযোগ বিভিন্নভাবে উঠে এসেছে এবং প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

অভিযোগ রয়েছে, টাকা ফেরতের চাপ বাড়লে মঞ্জুর ও তার ঘনিষ্ঠরা বিভিন্ন সময় জমি, নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট, ভবিষ্যৎ সম্পত্তি বিক্রি অথবা নতুন বিনিয়োগ আসার গল্প বলে সময় নিতেন। বিশেষ করে তার শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি বিক্রির প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে বহু ভুক্তভোগীকে দীর্ঘ সময় ধরে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মঞ্জুরের শাশুড়ি রিজিয়া হোসেন এর নামও একাধিক আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার মালিকানাধীন বা সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বিক্রির কথা বলে ভুক্তভোগীদের আইনি পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো কার্যকর সম্পত্তি হস্তান্তর বা অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি।

বিভিন্ন ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, “এটি কোনো একক প্রতারণা নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সংগঠিত আর্থিক প্রতারণা চক্র, যারা সম্পর্ক, পরিচয়, সামাজিক অবস্থান এবং ভুয়া ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মানুষকে ফাঁদে ফেলছে।”

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে ভুয়া ব্যবসায়িক উপস্থাপন, চেক ডিজঅনার, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ এবং সংঘবদ্ধ আর্থিক জালিয়াতির মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা হবে

Latest stories