28 C
Dhaka
Friday, September 4, 2026
Homeবাণিজ্যগ্রামীণফোনের মুনাফা কমেছে, রবির বেড়েছে কীভাবে?

গ্রামীণফোনের মুনাফা কমেছে, রবির বেড়েছে কীভাবে?

Date:

Related stories

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি চাওয়ায় ট্রলের শিকার নোরা ফাতেহি

বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যে বিশ্বশান্তির আহ্বান...

পটুয়াখালী-১ আসনে বিএনপির ৪ কমিটি স্থগিত

পটুয়াখালী-১ সংসদীয় আসনের আওতাভুক্ত বিএনপির চারটি সাংগঠনিক কমিটি স্থগিত...

ইরানে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জানাজায় খামেনি সমর্থকদের বড় সমাবেশ

ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জানাজায় রাজধানী...

বিব্রতকর ব্যাটিং প্রদর্শনীতে আয়ারল্যান্ডের কাছে হারল বাংলাদেশ

যে উইকেটে চার-ছক্কার ঝড় তুললেন দুই ভাই হ্যারি ও...

‘মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায়’ নিজ বাড়িতে ককটেল হামলা, যুবক কারাগারে

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় নিজের বাড়িতে ককটেল হামলা চালানোর অভিযোগে...

দেশের শীর্ষ টেলিকম অপারেটর গ্রামীণফোনের আয় ও মুনাফা দুটোই কমেছে ২০২৫ সালে। একই সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী রবি আজিয়াটার আয় ও মুনাফা বেড়েছে।

কোম্পানি দুটির আর্থিক প্রতিবেদন বলছে, গত বছর গ্রামীণফোনের আয় এর আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। মুনাফা কমেছে ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে রবির আয় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ এবং মুনাফা ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।

গ্রাহকসংখ্যার ওঠানামায় আয়-মুনাফায় এই পার্থক্য। বছর শেষে গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকসংখ্যা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৮ কোটি ৩৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে রবির সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫ কোটি ৭৪ লাখ।

গ্রামীণফোনের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এর একটি নতুন নিয়মের জন্য তাদের গ্রাহক কমেছে। বছরের শেষ প্রান্তিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি প্রতিটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সিমের নিবন্ধনসীমা ১৫টি থেকে কমিয়ে ১০টি করেছে। এর ফলে গ্রাহকদের বাড়তি সিমগুলো বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ জানান, এই নিয়মের কারণে প্রায় ১০ লাখ গ্রাহকের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে।

সাংবাদিকদের দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশের টেলিকম বাজারের প্রায় ৪৫ শতাংশ জিপির দখলে। তাই নিয়ম পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব জিপির ওপর পড়াটাই স্বাভাবিক।

বছর শেষে গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৮৭ লাখ। এটি তাদের মোট গ্রাহকের ৫৮ শতাংশ। তাদের মধ্যে ৪ কোটি ৪৬ লাখ ফোর-জি ব্যবহার করেন।

অন্যদিকে রবির সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ৪ কোটি ৪৫ লাখ। এটি তাদের মোট গ্রাহকের ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এদের মধ্যে ৩ কোটি ৯৯ লাখ ফোর-জি গ্রাহক।

সাধারণত গ্রাহক ও তাদের খরচ বাড়লে কোম্পানির আয় ও মুনাফা বাড়ে। আর গ্রাহকসংখ্যা কমে গেলে মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

রবি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সিম নিবন্ধনের নিয়ম পরিবর্তনের পর বাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে, গ্রাহক বৃদ্ধি তারই প্রতিফলন। এ ছাড়া তাদের ইন্টারনেট গ্রাহক ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হারে বেড়েছে।

খরচের ধরনেও দেখা গেছে ভিন্নতা। গ্রামীণফোনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভয়েস ও ডেটা (ইন্টারনেট) থেকে আয় কমে যাওয়ায় গ্রাহকপ্রতি গড় আয় ১৫৫ টাকা থেকে কমে ১৫১ টাকায় নেমেছে।

অন্যদিকে রবির গ্রাহকপ্রতি গড় আয় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১৪৫ দশমিক ৮ টাকায় উন্নীত হয়েছে। মূলত ডেটা থেকে বেশি আয় এবং গ্রাহকদের প্যাকেজ বা অফার পরিবর্তনের ফলেই এই প্রবৃদ্ধি এসেছে।

গ্রামীণফোনের কর্মকর্তা তানভীর বলেন, মূল্যস্ফীতির টানা চাপ এবং খরচের ব্যাপারে গ্রাহকদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় মোবাইল ব্যবহার কমেছে। ফলে আয়ও কমেছে।

তবে তিনি জানান, গ্রামীণফোনের গ্রাহকেরা অপেক্ষাকৃত বেশি পুরোনো ও দামি প্যাকেজ ব্যবহার করেন। গ্রাহক ধরে রাখা এবং তাদের সাধ্যের কথা বিবেচনা করে অনেক সময় স্বল্পমেয়াদে আয় ও মুনাফার ওঠানামা হতে পারে।

তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকপ্রতি আয় বাড়ানোর চেয়ে জিপি সব সময় নেটওয়ার্কের মান, ডিজিটাল সেবা এবং যৌক্তিক মূল্য বজায় রাখার মাধ্যমে গ্রাহক সম্পর্ক তৈরির ওপর জোর দেয়।

কমেছে ভয়েস কল

উভয় অপারেটরেই গ্রাহকদের ভয়েস কল বা কথা বলার হার কমেছে, তবে গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে এই হার তুলনামূলক বেশি। জিপির গ্রাহকপ্রতি গড় কথা বলার সময় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১৬২ মিনিটে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে রবির ক্ষেত্রে এই হার ৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১৪১ মিনিটে নেমেছে।

তানভীরের মতে, মানুষ এখন ওভার-দ্য-টপ (ওটিটি) প্ল্যাটফর্ম বা ইন্টারনেটে বেশি কথা বলছেন। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির কারণে গ্রাহকেরা খরচ কমাতেও মোবাইল কলে কথা বলা কমিয়ে দিয়েছেন।

গ্রামীণফোন ও রবির প্রবৃদ্ধির এই পার্থক্য নিয়ে কথা বলেন শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের সিইও কাজী মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, রবির আয় মূলত ডেটানির্ভর। বাজারে ডেটার ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে ভয়েস কল কমছে। এর ফলে তাদের আয় বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, রবির আয় বাড়লেও সেই তুলনায় তাদের মুনাফা এখনো বেশ কম, যেখানে গ্রামীণফোনের মুনাফা অনেক বেশি। এর মানে হলো, রবি তাদের পরিচালন দক্ষতায় সামান্য উন্নতি করলে তাদের মুনাফাও অনেকটা বাড়বে।

কাজী মনিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে রবির মুনাফা জিপির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। সেদিক থেকে বলা যায়, রবির মুনাফার হার আসলে দীর্ঘ সময় ধরেই বেশ কম।

আয় ও মুনাফা কমলেও আর্থিক সূচকগুলোতে গ্রামীণফোন এখনো বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। জিপির মুনাফার হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে রবির ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। জিপির রিটার্ন অন ইকুইটি (আরওই) ৪৯ শতাংশ, আর রবির ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এ ছাড়া শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য জিপির ৪১ দশমিক ৪৯ টাকা, যেখানে রবির ১৩ দশমিক ৩৪ টাকা।

(ঈষৎ সংক্ষেপিত, মূল প্রতিবেদনটি পড়তে ক্লিক করুন এই লিংকে)

Latest stories