28 C
Dhaka
Thursday, August 27, 2026
Homeখেলাবিপিএল: রঙচঙে প্রতিশ্রুতি, কাজে এলোমেলো

বিপিএল: রঙচঙে প্রতিশ্রুতি, কাজে এলোমেলো

Date:

Related stories

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি...

যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিসিকে রুমিন ফারহানার চিঠি

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে যুবদল...

ভাঙ্গায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৪ মামলায় আসামি ১৮৩

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের 'ঢাকা লকডাউন' কর্মসূচি...

নতুন আইফোন কবে আসবে জানালো অ্যাপল

অ্যাপল তাদের পরবর্তী পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করেছে।আগামী...

নিরাপত্তার নামে ঢাবির ছাত্রী হলে কেন এই নিয়ন্ত্রণ?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতে একটি নিয়ম চালু আছে। রাত...

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসর নিয়ে ছিল নতুনত্বের প্রতিশ্রুতি। গভর্নিং কাউন্সিল জানিয়েছিল, এবারের সংস্করণ হবে ভিন্ন ধারার। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সেই ‘ভিন্নতা’ গড়ে উঠেছে ঠিক পুরনো সমস্যাগুলোর ওপর। নিয়মে অস্পষ্টতা, সিদ্ধান্তে দেরি আর সংগঠনে আগের মতোই অস্থিরতা।

ইতিহাস বলছে, বিপিএল সচরাচর মসৃণভাবে শুরু হয় না। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। বরং এবারের আসরের ‘ভিন্নতা’ চোখে পড়ছে নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া পরিচালনার ধরনে, যা এখন পর্যন্ত অনেকটাই অস্পষ্ট।

শুরুতে পাঁচ দল নিয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও, ১৯ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ১৬ জানুয়ারি শেষ হওয়ার কথা থাকা বিপিএল এখন ছয় দলে সম্প্রসারিত হয়েছে। নবাগত দল নোয়াখালি এক্সপ্রেস যুক্ত হলেও, ফ্র্যাঞ্চাইজিদের অর্থপ্রদানের নীতিমালা নিয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো দেওয়া হয়নি।

বিপিএল সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান মিঠু জানান, শেষ মুহূর্তে ‘একটি সুযোগ’ দেখেই ষষ্ঠ দল অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেটারস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (কোয়াব) অনুরোধ ছিল ১৫–১৬ জন অতিরিক্ত স্থানীয় ক্রিকেটারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য।

মিঠুর ভাষ্য, তারা চান এবারের আসর ‘অর্থপ্রদান ও সততার ক্ষেত্রে পরিষ্কার’ হোক। এমনকি তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি কোনো দল আর্থিক ও শৃঙ্খলাবিষয়ক নীতিমালা মানতে ব্যর্থ হয়, তবে প্রয়োজন হলে বোর্ড সেসব দল ‘নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে’ পারে।

কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, ফ্র্যাঞ্চাইজিদের ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দেওয়ার সময়সীমা ইতোমধ্যে কয়েক দফা বাড়ানো হলেও এখনও দুই দল প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দিতে পারেনি। বাকিরা নাকি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আর্থিক সহায়তায় তাদের দায় ‘মেটানো হয়েছে’ বলে দেখাচ্ছে।

১২তম আসর সামনে রেখে এমন অসঙ্গতি বাড়তে থাকায় প্রশ্ন ওঠে, এসবের মাঝে এই বিপিএল আয়োজন কি মূলত ‘আগুনের ভেতরে হাঁটা’ নয়? উত্তরে মিঠুর বক্তব্য, ‘নিশ্চয়ই, এটা কঠিন কাজ। যদি ৭-৮ মাস সময় পেতাম, সবকিছু ঠিকঠাকভাবে সাজাতে পারতাম। এখন আমরা জরুরি পরিস্থিতি সামলাচ্ছি, আগুন নেভাচ্ছি।’

প্রাথমিকভাবে ১১টি প্রতিষ্ঠান ইওআই (আগ্রহপত্র) জমা দিলেও, প্রথম ধাপে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পায়। পরে নোয়াখালি এক্সপ্রেস (দেশ ট্রাভেলস) আর্থিক দলিল জমা দেওয়ার মাধ্যমে যোগ হয় ষষ্ঠ দল হিসেবে। অন্য পাঁচ দল হলো -চট্টগ্রাম রয়্যালস (ট্রায়াঙ্গেল সার্ভিসেস), ঢাকা ক্যাপিটালস (চ্যাম্পিয়ন স্পোর্টস লিমিটেড), রাজশাহী ওয়ারিয়র্স (নাবিল গ্রুপ), রংপুর রাইডার্স (টগি স্পোর্টস) এবং সিলেট টাইটান্স (জেএম স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট)।

এদিকে, এবারের সম্প্রচারের দায়িত্ব পেয়েছে ট্রান্স প্রোডাকশন টেকনোলজিস (টিপিটি)। এর আগে সম্প্রচার মহল সামলাত রিয়েল ইমপ্যাক্ট। তবে অভিজ্ঞতা বিচার করে এবার বিসিবি টিপিটিকেই বেছে নিয়েছে।

সব মিলিয়ে আগের মতোই একই চক্র বড় বড় ঘোষণা, কিন্তু বাস্তব ব্যবস্থাপনায় স্পষ্ট অগোছালোভাব। নতুন বিপিএলেও পুরনো কাহিনিই যেন আবার ফিরে আসছে।

Latest stories