31 C
Dhaka
Saturday, October 3, 2026
Homeআন্তর্জাতিক১৭ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে করাচির শপিংমলের আগুন, নিহত অন্তত ৬

১৭ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে করাচির শপিংমলের আগুন, নিহত অন্তত ৬

Date:

Related stories

ক্রিকেটই যখন পরিবারের ভাষা

বাবা টুকটাক ক্রিকেট খেলতেন, চার ভাই-বোনের সবাই ক্রিকেট খেলেন।...

দাবির মুখে পেছালো শাকসু নির্বাচন, শিগগিরই পুনঃতফসিল

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি)...

স্পটিফাই স্ট্রিমিংয়ে বিভ্রাট

মিউজিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাইয়ে কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে...

৩০ শতাংশের কম অগ্রগতি হওয়া প্রকল্প বাতিলের নির্দেশ

উন্নয়ন ব্যয়ে অপচয় কমাতে ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থায় জবাবদিহি বাড়াতে...

ঈদের ব্যস্ততা উপভোগ করছেন কর্ণিয়া

গানের জগতে দেড় দশক পার করেছেন জাকিয়া সুলতানা কর্ণিয়া।...

পাকিস্তানের করাচির এম এ জিন্নাহ সড়কের একটি বহুতল শপিং মলে অগ্নিকাণ্ডে এক দমকলকর্মীসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। ১৭ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

আজ রোববার এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন।

গতকাল শনিবার রাতে গুল প্লাজা নামে ওই শপিং মলে আগুন লাগে বলে জানান স্থানীয় কর্মকর্তারা। আজ রোববার বিকেল পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নেভাতে পারেননি দমকলকর্মীরা।

আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী নিহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

পুলিশের সার্জন ড. সুমাইয়া সাঈদ জানান, সিভিল হসপিটাল করাচি-তে (সিএইচকে) এখন পর্যন্ত ছয় জনের মরদেহ ও ১১ আহত ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হয়েছে।

হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম এপিপি।

সিন্ধু প্রদেশের স্থানীয় সরকার একটি হেল্পলাইন চালু করেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য হেল্পলাইনে কল করার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাস্থলে গণমাধ্যমকে করাচির উপ-মেয়র সালমান আব্দুল্লাহ মুরাদ জানান, আগুন প্রায় ৬০ শতাংশের মতো নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

তিনি জানান, ‘আগুন নেভানোর কাজ চলছে। শিগগির শীতলীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

এরপর নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে অভিযান শুরু হবে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

এপিপির কাছে দেওয়া বক্তব্যে সিন্ধু প্রদেশের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী শারজিল ইনাম মেমন জানান, ‘১৭ জনেরও বেশি মানুষ’ নিশ্বাসের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

তবে তাদের অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, গুল প্লাজা একটি পুরনো ভবন। তদন্ত শেষ না করে অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানা যাবে না বলে মত দেন ওই মন্ত্রী।

আগুন নেভানোর কাজে ৪০টি স্নরকেল ব্যবহার হচ্ছে বলে জানান তিনি। 

এর আগে, উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র হাসানুল হাসিব খান জানান, অন্তত ২০ ব্যক্তি এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ডন টিভির সংবাদদাতা জানান, অগ্নিকাণ্ডে শপিং মলের প্রতিটি অংশই ক্ষতির শিকার হয়েছে। একটি অংশ ‘পুরোপুরি ধসে’ পড়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

দিল্লি কলোনির বাসিন্দা মনসুর ও জামিল ওই সংবাদদাতাকে জানান, তাদের পরিবারের ছয় সদস্য গতকাল রাতে গুল প্লাজায় কেনাকাটা করতে এসেছিলেন। গতকাল রাত ১০টা ১০-এর পর থেকে তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানান তারা।

এরপর থেকে তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

রেসকিউ ১১২২ এর মুখপাত্র হাসিব খান বলেন, ‘গুল প্লাজার বিভিন্ন দোকানে তৈজসপত্র, কাপড়, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, কসমেটিকস ও পারফিউম বিক্রি হোত। এ কারণে (দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি) আগুনের মাত্রা বেড়ে যায়।’

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ‘ভবনটি অত্যন্ত পুরনো। আগুনের দমকে যেকোনো মুহূর্তে এটি পুরোপুরি ধসে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।’

ভবনের নিচ তলার দোকানগুলো থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে হাসিব খান নিশ্চিত করেন।

ফুরকান শওকত নামের দমকলকর্মী আগুন নেভাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে। করাচির মেয়র মুর্তাজা ওয়াহাব এই তথ্য জানান।

মেয়র ওয়াহাব এক বিবৃতিতে জানান, ‘পৌরসভার সব দপ্তরকে ভুক্তভোগীদের সহায়তা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সিন্ধু প্রদেশের পুলিশের আইজি জাভেদ আলন ওধো জানান, গতকাল রাত পৌনে ১১টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

‘সম্ভবত শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়’, যোগ করেন তিনি।

পুলিশের আইজি উল্লেখ করেন, গুল প্লাজায় দোকানের সংখ্যা প্রায় এক হাজার ২০০। পাশাপাশি, সেখানে একটি বেইজমেন্ট ও আছে।

তিনি বলেন, ‘শপিং মলের নকশা ও নির্মাণ প্রক্রিয়া, পাশাপাশি, সেখানে রাখা কার্পেট ও অন্যান্য রেসিনের উপকরণ থাকায় আগুন এখনো জ্বলছে।’

পুলিশের অপর কর্মকর্তা সিডিপিও মহসিন রেজাও অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে শর্ট সার্কিটের কথা উল্লেখ করেন।

সিন্ধু প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লাঞ্জার জানান, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের কারণ খুঁজে বের করা হবে।

আগুন যাতে আর ছড়িয়ে না পড়ে, সেটা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলি শাহ করাচি কমিশনারকে অবিলম্বে আগুনের কারণ জানতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ গুল প্লাজার অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ।

Latest stories