29.6 C
Dhaka
Friday, July 3, 2026
Homeপ্রযুক্তিঅ্যানথ্রপিকের এআই মডেলের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

অ্যানথ্রপিকের এআই মডেলের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

Date:

Related stories

আইসিটিতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান, বছরে বিদেশে যাবেন ২০ লাখ কর্মী

তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতকে ‘বিশেষ অগ্রাধিকার’ দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের...

নিরহংকার নায়ক ছিলেন জাভেদ: রোজিনা

নায়ক ইলিয়াস জাভেদ ও নায়িকা রোজিনা অনেকগুলো সিনেমায় অভিনয়...

মার্কিন জ্বালানির প্রাণকেন্দ্র হবে ভেনেজুয়েলা: মাচাদো

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় চলছে তুলকালাম কাণ্ড। মাদক পাচারে...

রুমিন-নীরবসহ ৯ বিএনপি নেতা বহিষ্কার

রুমিন ফারহানা ও সাইফুল আলম নীরবসহ নয়জনকে বিএনপি থেকে...

ফাইনালেও সুপার ওভার: বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হার, চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান শাহিনস

সেমিফাইনালে সুপার ওভারের রোমাঞ্চে ভারত 'এ' দলকে হারিয়ে ফাইনালে...

চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক তাদের জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ইঞ্জিন ক্লডের সবচেয়ে নতুন ও উন্নত সংস্করণ ফেবল ৫ ও মিথোস ৫ বাজারে উন্মুক্ত করে। 

৯ জুন মডেলগুলো বাজারে আসার তিন দিনের মাথায় মার্কিন সরকার  দাবি করে, এই এআই ইঞ্জিনকে সাইবারহামলার কাজে ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। 

সে অনুযায়ী বাণিজ্য দপ্তর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। 

তবে গতকাল মঙ্গলবার এই স্বল্পমেয়াদি রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ওয়াশিংটন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে। 

ফলে অ্যানথ্রপিকের সবচেয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলগুলো এ সপ্তাহেই আবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।

গত ১২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তর অ্যানথ্রপিককে তাদের ফেবল ৫ ও মিথোস ৫ মডেলে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশাধিকার তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। 

ব্যবহারকারীদের জাতীয়তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে না পারায় অ্যানথ্রপিক দুটি মডেলই পুরোপুরি অফলাইনে নিয়ে যায়। 

সে সময় অ্যামাজনের গবেষকরা ফেবল ৫ এর একটি নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা শনাক্ত করেন। হ্যাকারদের জন্য ওই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এড়িয়ে সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে পাওয়ার সুযোগ ছিল। এমন কী, এসব দুর্বলতার ফায়দা নিতে ভুয়া কোড তৈরি করার উপায়ও খুঁজে পান গবেষকরা। 

এসব তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর অ্যানথ্রপিকের মডেলগুলো নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেয় মার্কিন সরকার। 

অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, এ বিষয়টি জানার পর তারা এআই মডেলে নতুন একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করেছে। 

এই ব্যবস্থার অধীনে বাইরে থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা এলে সেগুলো নতুন মডেলের বদলে অপেক্ষাকৃত দুর্বল মডেল ওপাস ৪.৮ এর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ওই মডেলটি অপেক্ষাকৃত দুর্বল হওয়ায় ক্ষতিকারক বা বড় আকারের সাইবারহামলার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।  

আজ বুধবার থেকে ফেবল ৫ আবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত হবে। 

অন্যদিকে, সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা শনাক্তের জন্য তৈরি মিথোস ৫ গত সপ্তাহে সীমিতসংখ্যক বিশ্বস্ত মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছিল। এখন গ্লাসউইং কর্মসূচির আওতায় এটি আরও বেশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে, এই সমাধানটি পুরোপুরি নিখুঁত নয়। এর ফলে সাধারণ ইউজারদের কাজেও বাধার সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির দাবি করেছে, কোনো এআই মডেলকে জেলব্রেক (হ্যাকিং) থেকে শতভাগ সুরক্ষা দেওয়া অসম্ভব বললেও কম বলা হবে। এখন পর্যন্ত এমন কোনো সার্বজনীন সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

তবে বাহ্যিক নিরাপত্তা পরীক্ষকরা এখনও মডেলটিতে আর কোনো দুর্বলতা আছে কী না, তা খতিয়ে দেখছেন। 

এক চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক বলেছেন, অ্যানথ্রপিক যদি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে যেকোনো সময় আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের তথ্য সরকারকে জানানো এবং ভবিষ্যতে নতুন মডেল প্রকাশের নীতিমালা তৈরিতে সরকারের সঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।

রয়টার্স চিঠিটির একটি কপি সংগ্রহ করেছে। 

চিঠিতে লাটনিক দাবি করেন, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর আগে অত্যাধুনিক এআই মডেলগুলো পর্যালোচনার যে বৃহত্তর উদ্যোগ নিয়েছে হোয়াইট হাউস, এটা সেই উদ্যোগেরই অংশ। 

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী নতুন এআই মডেল ইউজারদের কাছে উন্মুক্ত করে দেওয়ার ৩০ দিন আগে সরকারি মূল্যায়নের জন্য জমা দিতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। 

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই গত সপ্তাহে নিশ্চিত করেছে, ওয়াশিংটনের অনুরোধে তারা তাদের জিপিটি ৫.৬ মডেল বাজারে আনার উদ্যোগ স্থগিত করেছে। 

রয়টার্স জানিয়েছে, অ্যানথ্রপিক এখন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা আরও জোরদার করছে। প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সরকারি সংস্থাগুলোকে দুটি মডেলেই আগাম প্রবেশাধিকার দিচ্ছে। 

পাশাপাশি জেলব্রেক শনাক্ত ও প্রতিরোধে অভিন্ন মানদণ্ড তৈরির জন্য অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, গুগল এবং গ্লাসউইং কর্মসূচির অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছে।

চলতি বছরের শুরুতে অ্যানথ্রপিক তাদের এআইকে ব্যাপক অভ্যন্তরীণ নজরদারি বা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানালে পেন্টাগন প্রতিষ্ঠানটিকে ‘সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতি’ হুমকি আখ্যা দেয়। এদিকে অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই—উভয় প্রতিষ্ঠানই গোপনে শেয়ারবাজারে প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার (আইপিও) আবেদন জমা দিয়েছে।
 

Latest stories